স্টাফ রিপোর্টারঃ
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বহুল প্রতীক্ষিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কোটা সংস্কার কার্যকর হলেও শিক্ষক নিবন্ধনে এখনো ৩০ শতাংশ নারী কোটা বহাল রয়েছে। এটি শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং ২০২৪ সালের আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়েছিল কোটা প্রথাকে চিরতরে কবর দেওয়ার জন্য। হাজারো ছাত্রজনতা রক্ত ঝরিয়েছিল, শহিদ হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। অথচ আজও শিক্ষক নিবন্ধনে নারী কোটা বহাল রাখা হয়েছে, যা শহিদদের আত্মত্যাগকে উপহাস করার শামিল। একদিকে কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়া হলো, অন্যদিকে গোপনে তা টিকিয়ে রাখা হলো—এটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বৈষম্যমূলক এই কোটা নীতির কারণে মেধাবী পুরুষ প্রার্থীরা প্রতিযোগিতার সুযোগ হারাচ্ছেন, যা ন্যায়সংগত নিয়োগ ব্যবস্থার মৌলিক চেতনাকে আঘাত করছে। আজকের সমাজে নারীরা শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তাহলে কেন এখনো বিশেষ সুবিধার প্রয়োজন? কেন মেধাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে না?
অনতিবিলম্বে শিক্ষক নিবন্ধনে নারী কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। “এক দেশ, এক নীতি”—এই নীতির ভিত্তিতেই সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জানিয়ে এ ধরনের বৈষম্য টিকিয়ে রাখা চলতে পারে না। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে মেধার কদর করতে চায়, তবে অবিলম্বে নারী কোটা বিলুপ্ত করাই হবে একমাত্র ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ।